অনেক প্রজাতির করোনা ভাইরাসের মধ্যে সার্সকোভিড একটি। ২০১৯ সালে এই ভাইরাসটি আবিস্কৃত হওয়ায় এর নাম কোভিড১৯। কোভিড১৯ প্রধানত শ্বাসতন্ত্রের রোগ সৃষ্টি করে।

পরিবেশের ওপর নির্ভর করে কোভিড১৯ ভাইরাস কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েকদিন বেঁচে থাকতে পারে। কোভিড১৯ শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে যেমন হাঁচি/কাশি/কফ/সর্দি/থুথুর মাধ্যমে ছড়ায়; এছাড়া, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে; আক্রান্ত রোগীর স্পর্শ করা (চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি), তার ব্যবহৃত (কাপড়, বিছানার চাদর, তোয়ালে), বা পরিচর্যায় ব্যবহৃত জিনিসপত্র (মাস্ক, গ্লাভস, টিস্যু, স্টেথোস্কোপ, ব্লাড প্রেশার মেশিন, থার্মোমিটার ইত্যাদি) তাৎক্ষনিকভাবে খালি হাতে স্পর্শ করলে বা ধরলে তার মাধ্যমের ছড়িয়ে থাকে।

নভেল করোনা ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় ১৪ দিন লাগে; বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রথম লক্ষণ জ্বর । ছাড়া শুকনো কাশি/ গলা ব্যথা , শ্বাসকষ্ট / বুকে ব্যথা অনুভত হওয়া, গন্ধ স্বাদের অনুভূতি কমে যাওয়াও কোভিড১৯ এর লক্ষণ 

ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কোভিড১৯ এর লক্ষণগুলো প্রাথমিকভাবে দেরি করে দেখা দেয় বা কিছুটা মৃদু লক্ষণ থাকে।

 ঠান্ডাজ্বরইনফ্লুয়েঞ্জাকোভিড ১৯
সুপ্তকালিন সময় দিন দিন১৪ দিন
লক্ষণ শুরুআস্তে আস্তেআকস্মিকআস্তে আস্তে
লক্ষণের স্থায়িত্বকাল১২ দিন দিনস্বল্পমাত্রা: সপ্তাহ সংকটপূর্ণ: ৩-৬ সপ্তাহ
জ্বরকখনও কখনওথাকবেথাকবে
সর্দিসাধারণত থাকেকখনও কখনওসাধারণত থাকে না
গলা ব্যাথাসাধারণত থাকে কখনও কখনওকখনও কখনও
কাশিসাধারণত থাকে কখনও কখনওসাধারণত থাকে
শরীর ব্যাথাসামান্য থাকতে পারেসাধারণত থাকেসাধারণত থাকে না
শ্বাসকষ্টবিরলবিরলসাধারণত থাকে 

যে কেউ কাভিড১৯ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। বয়স্কপুরুষ, এবং যাদের আগে থেকে কোন অসুস্থতা আছে (এজমা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ কিডনির সমস্যা, ক্যান্সারঅত্যাধিক মোটা (বিএমআই ৪০ কেজি/মি২ এর বেশি) এমন ব্যক্তিদের গুরুতর অসুস্থ হবার ঝুঁকি বেশি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সব বয়সী মানুষকে এই ভাইরাস থেকে প্রতিরক্ষা মূলক ব্যবস্থা মেনে চলার উপদেশ দিয়েছে।

কোভিড১৯ এর জটিলতাসমূহ হল: নিউমোনিয়া, একিউট রেসপিরেটরী ডিসট্রেস সিনড্রোম, হৃদযন্ত্রে সমস্যা, সেপটিক শক,লিভার কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া। অন্যান্য অসুস্থতা বিশেষকরে ডায়াবেটিস/ উচ্চ রক্তচাপ/ অ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট / হৃদরোগ/ কিডনী সমস্যা/ ক্যান্সার ইত্যাদি থাকলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যেতে পারে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) এবং টাইপ ডায়াবেটিকদের ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিস হতে পারে।

আক্রান্তদের বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে উঠেন, তবে আক্রান্তদের খুব অল্প সংখ্যক গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরণ করতে পারে

কোন ব্যক্তির যদি ১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট বা তার বেশি জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়, গত ১৪ দিনের মধ্যে কেউ কোভিড১৯ আক্রান্ত দেশ বা স্থানে ভ্রমণ করে থাকেন, কোভিড১৯ সনাক্ত হয়েছে এমন কোন হাসপাতালে গিয়ে থাকেন, স্বাস্থ্যকর্মী যারা কোভিড১৯ আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে মিটার দূরত্বের মধ্যে কমপক্ষে ১৫ মিনিট ধরে অবস্থান করেছেন তাদের অবশ্যই কোভিড সনাক্তকরণের জন্য ল্যাবরেটরী পরীক্ষা করে দেখতে হবে 

ল্যাবরেটরী পরীক্ষা হলো পিসিআর টেস্ট; গলা নাকের ভেতর থেকে নমুনা হিসাবে তুলা দিয়ে লালা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া  ইমিউনোগ্লোবিন এন্টিবডি টেস্ট, বুকের এক্সরে (বুকের দুইপাশে নিউমোনিয়া),  সিটিস্ক্যান (গ্রাউন্ড গ্লাস ওপাসিটি), রক্তপরীক্ষা বিশেষ করে, সিবিসিনরমাল বা লো টোটাল কাউন্ট।

না, এখনো পর্যন্ত নভেল করোনাভাইরাস এর চিকিৎসা বা প্রতিরোধে কার্যকরী কোন ওষুধ নেই। কিন্ত আক্রান্ত ব্যক্তিদের উপসর্গ উপশমের জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা এবং গুরুতর অসুস্থদের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সেবা দিতে পারে। সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা পরীক্ষাধীন, যা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। বিশ^ স্বাস্থ্য সয়স্থা তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহ এই সংক্রান্ত গবেষণা ত্বরান্বিত করার জন্য সহযোগীতা করছে।

  • হাসপাতালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রসমূহের সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকারি গাইডলাইন অনুসারে কোভিড১৯ সনাক্ত করণীয় বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া। 
  • হাসপাতালে স্বাস্থ্যকেন্দ্রসমূহে ঢোকার মুখে সন্দেহভাজন রোগীদের কোভিড১৯ স্ক্রীনিং করার জন্য একটি বিশেষ জায়গার ব্যবস্থা করা যাতে সহজেই হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ইনফেকশন ছড়াতে না পারে।
  • হাসপাতাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রসমূহের ভিতরে সন্দেহভাজন ডায়াবেটিক রোগীদের (বিশেষ করে যদি কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট থাকে) জন্য আলাদাভাবে বসার ব্যবস্থা করা।
  • ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের চিকিৎসা পরামর্শ দেবার পাশাপাশি অতি দ্রুত সরকার মনোনীত হাসপাতাল বা আইইডিসিআর অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা এবং পরবর্তী করণীয় সর্ম্পকে অবহিত করা। 
  • স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, রোগী এবং ভিজিটরদের জন্য সার্বক্ষণিকভাবে এলকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা।
  • রোগী স্বাস্থ্যকর্মী সকলের জন্য তিন স্তরের সার্জিক্যাল মাস্ক গ্লাভস এর ব্যবস্থা করা। এগুলো স্বল্পমূল্যে রোগীদের দেয়ার ব্যবস্থা করা। 
  • হাসপাতাল স্বাস্থ্যকেন্দ্রসমূহের যে সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের সরাসরি রোগীদের কাছাকাছি আসতে হয় তাদের জন্য পিপিই এর ব্যবস্থা করা।  
  • রোগীরা যেন হাসপাতাল/স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভিতর অবাধে চলাফেরা না করে সে জন্য সবাইকে সতর্ক করা।
  • বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া রোগীদের হাসপাতাল/ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে না আসার জন্য উৎসাহিত করা। 
  • প্রয়োজনে অনলাইন বা টেলিফোনে চিকিৎসক/ পুষ্টিবিদ/ ডায়াবেটিস এডুকেটরদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়ার ব্যবস্থা করা। 
  • ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে, প্রত্যেক রোগীর জন্য সীমিত সংখ্যক ভিজিটর নির্ধারণ করা। 
  • রোগীর ভিজিটরদের মাস্ক গ্লাভস পরে রোগীর সাথে দেখা করা বাধ্যতামূলক করা এবং তাদের ভিজিটগুলো রেকর্ড করা। 
  • নিয়মিত হাসপাতাল স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিস্কার এবং জীবাণুমুক্ত করা। 
  • পর্যাপ্ত আলো বাতাসের সুব্যবস্থা করা। 
  • এক সঙ্গে সকল কর্মীদের ব্যবহার না করে রোস্টার করে সেবা কার্যক্রম চালু রাখা। 
  • কোভিড১৯ সনাক্ত প্রাথমিক পর্যায়ে একজন স্বাস্থ্যকর্মীর করণীয় বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেয়া।
  • স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা (পিপিই) এর গুরুত্ব এবং সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেয়া।
  • ঘন ঘন হাত পরিস্কার করা। এলকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা:
  • রোগীর সংস্পর্শে আসার আগে পরে
  • রোগীর কোন কিছু স্পর্শ করার পরে
  • রোগী দেখার সরঞ্জাম পরিস্কার জীবাণুমুক্ত করার আগে পরে 
  • রোগী দেখার আগে, অবশ্যই পরে নেয়া দরকার
  • নাকমুখ ঢাকার জন্য তিন স্তরের সার্জিক্যাল মাস্ক
  • গ্লাভস
  • পরিস্কার এবং লম্বা ফুল হাতা জামা/ গাউন
  • চোখ ঢাকার জন্য গগলস 
  • হাত দিয়ে নাক, মুখ চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা।
  • সন্দেহভাজন কোভিড১৯ রোগীদের থেকে অন্তত মিটার ( ফুট) দূরে থাকা।
  • রোগী দেখার সরঞ্জামগুলি (যেমন স্টেথোস্কোপ, ব্লাড প্রেশার মেশিন, থার্মোমিটার) প্রত্যেকবার রোগী দেখার আগে   পরিস্কার জীবাণুমুক্ত করা। 
  • আক্রান্ত রোগীকে সেবা প্রদানের পর যদি কেন্দ্রের কোন স্বাস্থ্যকর্মীর হাঁচি, কাশি অথবা ¦ এর লক্ষণ দেখা দেয়, তবে অতি দ্রুত সরকারের মনোনীত হাসপাতালে বা আইইডিসিআর অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যোগাযোগ করা এবং পরবর্তী করণীয় জেনে নেয়া। প্রয়োজনে ১৬২৬৩ বা ৩৩৩ নাম্বারে ফোন করে পরামর্শ নেয়া।
  • বাসায় ফিরে প্রথমেই বাথরুমে গিয়ে হাসপাতালে পরিধেয় পোশাকগুলো ধুয়ে তারপর গোসল করে ফেলা।  

রক্তের গ্লুকোজ বেশি হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে খুব সহজেই যেমন কোভিড১৯ আক্রান্ত হতে পারে তেমনি ডায়াবেটিক ব্যক্তির ক্ষেত্রে রোগটি খুব দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে, তাই করোনা প্রতিরোধ করতে প্রয়োজনীয় হলো

  • ঘন ঘন দুই হাত সাবান পানি দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবৎ পরিষ্কার করা। বিশেষ করে খাওয়ার আগে, বাথরুম ব্যবহার করার পরে এবং হাঁচি, কাশি দেয়া বা জনসমক্ষে থাকার পর। 
  • প্রয়োজনে এলকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা।
  • যেখানে সেখানে কফ থুতু না ফেলা। হাত দিয়ে নাক, মুখ চোখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা।
  • হাঁচিকাশির সময়ে টিস্যু অথবা কাপড় দিয়ে বা বাহুর ভাঁজে নাকমুখ ঢেকে ফেলা। ব্যবহৃত টিস্যু ঢাকনাযুক্ত ময়লার পাত্রে ফেলা হাত পরিষ্কার করা।
  • টিস্যু না থাকলে শুধু হাত মোছার জন্য নির্দিষ্ট তোয়ালে/ গামছা ব্যবহার করা এবং ভিজে গেলে বদলে ফেলা।
  • ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী যেমন চশমা, চিরুনি, তোয়ালে ইত্যাদি অন্য কারো সাথে ভাগাভাগি করে ব্যবহার না করা।
  • ঘরের মেঝে, আসবাবপত্রের সকল পৃষ্ঠতল, টয়লেট বাথরুম প্রতিদিন অন্তত একবার পরিষ্কার করা। পরিষ্কারের জন্য লিটার পানির মধ্যে ২০ গ্রাম ( টেবিল চামচ পরিমাণ) ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে দ্রবণ তৈরি করে সকল স্থান ভালোভাবে মুছে ফেলা। তৈরি করা এই দ্রবণ সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।
  • পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা।
  • প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার চিনিমুক্ত তরল পানীয় পান করা। কিডনি বা হৃদরোগের কারণে যদি পানি গ্রহণের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়া থাকে তবে তা মেনে চলা। 
  • স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। 
  • ধুমপান/তামাক বর্জন করা।
  • অসুস্থ হলে ঘরে থাকা, বাইরে যাওয়া অত্যাবশ্যক হলে নাকমুখ ঢাকার জন্য তিন লেয়ারের সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা।
  • জ্বর, হাঁচিকাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।
  • ভীড় জনসমাগণ এড়িয়ে চলা। 
  • করমর্দন বা কোলাকুলি না করা এবং পরস্পরের মধ্যে মিটারের ( ফুট) বেশী দূরত্ব বজায় রাখা।
  • অসুস্থ পশু/পাখির সংস্পর্শ পরিহার করা। 

অসুস্থতাকালীন সময়ে চিকিৎসক হাসপাতালে যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ পূর্বের থেকে সংগ্রহ করে রাখতে হবে।  প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাছে অনলাইনে বা টেলিফোনে বাসা থেকেই চিকিৎসা নিতে হবে। জরুরি অবস্থা হলে তবেই চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট হাসপাতালে যাবেন। কমপক্ষে থেকে সপ্তাহের মুখে খাবার ওষুধ ইনসুলিন সংগ্রহ করে রাখুন। পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন ভায়াল, কলম, কার্টিজ, সিরিঞ্জ, গ্লুকোমিটার গ্লুকোমিটারের ব্যাটারি, স্ট্রিপ, নীড্ল্স, এলকোহল প্যাড হ্যান্ড স্যানিটাইজার সংগ্রহ করে রাখুন টাইপ ডায়াবেটিসে আক্রান্তরা কিটোন স্ট্রিপ সাথে রাখুন। হাইপোগ্লাইসেমিয়া চিকিৎসার জন্য গ্লুকোজ ট্যাবলেট, লজেন্স, জুস সংগ্রহ করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ 

  • ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ না করা।
  • ঘন ঘন রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করা।
  • দৈনন্দিন রুটিন (যেমনখাওয়া, হালকা ব্যায়াম ইত্যাদি) মেনে চলা।
  • সম্ভব হলে বাসা থেকে অফিসের কাজ করা।
  • বইপড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা অথবা উপর্যুক্ত নিয়মগুলোর সাথে পরিপন্থী নয় এমন যে কোন বিনোদনমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করা বা ব্যস্ত রাখা।
  • প্রতিদিন ওজন মেপে দেখা। স্বাভাবিক খাবার খাওয়ার পরেও ওজন কমে যাওয়া রক্তে গ্লুকোজ বেড়ে যাওয়ার একটি লক্ষণ। 
  • জ্বর থাকলে প্রতিদিন কমপক্ষে দুইবার বা তার বেশি সময় শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখা। জ্বর সংক্রমণের একটি লক্ষণ হতে পারে।  
  • জ্বর থাকলে প্রতি ৩০ মিনিটে ১২০ থেকে ১৮০ মিলিলিটার তরল গ্রহণ করা যাতে পানিশূন্যতা দেখা না দেয়।
  • ইনফ্লুয়েঞ্জার লক্ষণ দেখা দিলে নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে:
    • ট্যাবেলেট প্যারাসিটামল (৫০০ মিলিগ্রাম) – ++
    • ট্যাবেলেট এন্টিহিস্টামিন (ফেক্সোফেনাডিন ১২০/১৮০ মিলিগ্রাম) – ++
    • গরম পানি গড়গড়া করা বা স্টিম ইনহেলেশান (গরম পানির ভ্যাপ নেয়া)
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আপনার পুষ্টিবিদের দেয়া পুষ্টি পরামর্শগুলো মেনে চলা।  
  • খাবার বিশেষ করে মাছ, মাংস ডিম ভালোভাবে সিদ্ধ করে খাওয়া এবং কাঁচা দুধ খাওয়া যাবে না।
  • খাওয়ার আগে ফলমূল এবং বাইরে থেকে কেনার পর রান্ন্া করার আগে শাকসব্জি ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। 
  • এই সময় তাজা ফলমূল, শাকসব্জি, ভিটামিনসি ডি যুক্ত খাবার, বাদাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহয়তা করতে পারে।
  • তেল চর্বি জাতীয় খাবার পরিমিত পরিমাণে খাওয়া।

লবন সীমিত পরিমানে গ্রহণ করা।

  • সংক্রমণের লক্ষণ থাকলে ব্যয়াম করা যাবে না।
  • কোভিড ১৯ মহামারীর মত পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে বাইরে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকা এবং জিম, স্পোর্টস সেন্টার সুইমিংপুলগুলি বন্ধ থাকায় আইসোলেসন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেও কিছু ব্যায়াম করা যায় যা রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
    • বাসা বা বাড়ির মধ্যে জায়গা থাকলে সেখানেই হাঁটা, এমনকি বাসার ছাদে, ঘরের ভেতরে, বারান্দায়, গ্যারেজেও হাঁটা যেতে পারে।
    • খালি হাতের ব্যায়াম (ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ), অ্যারোবিক ব্যায়াম, যোগ ব্যায়াম করা। 
  • ঘরে ট্রেডমিলে এক ঘন্টা দ্রুত হাঁটা (দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই) অথবা ১৫ মিনিট করে বার মাঝারি গতিতে সাইক্লিং করা 

অসুস্থতার দিনগুলোতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা দ্রুত সেরে ওঠার জন্য বিশেষভাবে জরুরি। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজন নিচের নিয়মগুলো মেনে চলা

  • একটু বেশি পরিমাণে পানীয় পান করা যাতে পানিশূন্যতা দেখা না দেয়।
  • যদি বমি হয়, তাহলে প্রতি ১৫ মিনিট পর পর কিংবা সারাদিনে অল্প অল্প করে পানি পান করা এবং অল্প অল্প করে বার বার খাবার খাওয়া। 
  • ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের কাজ না করে বিশ্রামে থাকা।
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা।
  • বাসায় ঘন ঘন রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করা:

 

ডায়াবেটিসের ধরন

রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা

সময়

টাইপ 

১০ এর বেশি থেকে ১৪ মিলিমোল/ লিটার এর মধ্যে

ঘন্টা পর পর

টাইপ 

১৪ মিলিমোল/ লিটার এর উপরে প্রস্রাবে কিটোন পাওয়া গেলে

ঘন্টা পর পর

টাইপ

১০ এর বেশি থেকে ১৪ মিলিমোল/ লিটার এর মধ্যে

দিনে কয়েকবার

টাইপ

১৪ মিলিমোল/ লিটার এর উপরে প্রস্রাবে কিটোন পাওয়া গেলে

ঘন্টা পর পর



  • রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ১০ মিলিমোল/ লিটারের নিচে এবং প্রস্রাবে কিটোন অনুপস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম মেনে চলা।
  • রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে অতিরিক্ত ইনসুলিন দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
  • সতর্ক থাকা যাতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কম বা মারাত্বকভাবে বেড়ে না যায়। 
  • রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে অর্থাৎ হাইপোগ্লাইসেমিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে ১৫ গ্রাম পরিমাণ সরল শর্করা যেমন; গ্লুকোজের, মধু, জ্যাম, লজেন্স, জুস খাওয়া এবং ১৫ মিনিট পর পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা। যদি গ্লুকোজের মাত্রা না বাড়ে ( মিলিমোল/ লিটার এর উপর) কিংবা উপসর্গ না কমে সেক্ষেত্রে পুনরায় একই জাতীয় খাবার খাওয়া।
  • হাত ধুয়ে নেয়া এবং ইনসুলিন ইনজেকশন দেয়ার নির্দিষ্ট জায়গা এবং রক্ত পরীক্ষায় ব্যবহৃত আংগুল অ্যালকোহল প্যাড দিয়ে মুছে পরিস্কার করা।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন অবস্থাতেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত ইনসুলিন বা মুখে খাওয়ার ওষুধ বন্ধ না করা। 
  • খাবারের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে ওষুধের মাত্রা কমিয়ে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য যারা ইনসুলিন নেন, মধ্য অথবা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে এমন ইনসুলিন নিতে থাকা। তবে এসময় ইনসুলিনের মাত্রা কমিয়ে ফেলার প্রয়োজন হতে পারে।
  • রক্তের গ্লুকোজ খাবারের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে দ্রুত/ স্বল্প সময় ধরে কাজ করে এমন ইনসুলিনের মাত্রা নির্ধারণ করে নেয়া। 
  • ডায়াবেটিস ব্যক্তিদের অসুস্থ দিনগুলোতে মুখে খাওয়ার ওষুধের মাত্রা নির্ধারণ করে নেয়া; দীর্ঘস্থায়ী মুখে খাওয়ার ওষুধের পরিবর্তে স্বল্পস্থায়ী মুখে খাওয়াার ওষুধ বা ইনসুলিন নিতে হতে পারে।
  • অনিয়ন্ত্রিত এবং অত্যাধিক ডায়রিয়া বা বমি ( ঘন্টার বেশি থাকলে
  • দিনের বেশি অসুস্থ 
  • রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ১৪ মিলিমোল/ লিটারের উপর 
  • চিকিৎসা নেয়ার পরও প্রস্রাবে কিটোনর উপস্থিতি
  • কম বয়সী
  • পেটে ব্যথা 
  • শ্বাস নিতে কষ্ট বা শ্বাস দ্রুত হলে
    • সাথে অন্যান্য জটিলতা দেখা দিলে
  • রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ১৪ মিলিমোল / লিটার এর বেশি থাকলে  সাধারণ খাবারের পরিবর্তে চিনি/ গ্লুকোজ ক্যাফেইনমুক্ত তরল গ্রহণ করা। সময় ফলের রস, দুধ দুধজাতীয় খাবার বর্জন করা। 
  • গ্লুকোজের মাত্রা ১০১৪ মিলিমোল / লিটার এর মধ্যে হলে সাধারণ খাবারের পরিবর্তে ১৫ গ্রাম শর্করার সমপরিমাণ খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা। সময় অতিরিক্ত পানি স্যুপ খাওয়া দরকার। 
  • গ্লুকোজের মাত্রা যদি ১০ মিলিমোল / লিটার এর কম হয় তাহলে সাধারণ সময়ের খাবারের নিয়ম অনুযায়ী শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়া। ইনসুলিন নেবার পর যদি বমি হয়ে থাকে তাহলে ২০৩০ মিনিট পর পর চিনি/ গ্লুকোজ মিশ্রিত পানি পান করা যাতে রক্তের গ্লুকোজ .১০ মিলিমোল/লিটার এর মধ্যে থাকে। তবে রক্তে গ্লুকোজের পরিমান . মিলিমোল/ লিটার এর কম হলে এবং বমি বন্ধ না হলে দ্র হাসপাতালে নেয়া জরুরী।
  • ১২৫ মিলি লিটার ফলের রস বা কোমল পানীয়
  • কাপ স্যুপ
  • ২৫০ মিলি লিটার কম চর্বিযুক্ত দুধ
  • কাপ আইসক্রিম অথবা দই 
  • কাপ মিষ্টিবিহীন সেরিয়াল
  • ৬টা ক্রেকার
  • / কাপ ভাত
  • কাপ আলুভর্তা
  • আক্রান্ত ব্যক্তির যদি মৃদু ইনফ্লুয়েঞ্জা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয় এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি খালি পেটে .. এবং খাওয়ার ঘন্টা পরে যদি .. থাকে তাহলে পূর্বের ওষুধ খেতে হবে। 
  • আক্রান্ত ব্যক্তির যদি মাঝারি নিউমোনিয়া এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি খালি পেটে .. এবং খাওয়ার ঘন্টা পরে .১০. থাকে তাহলে চামড়ার নিচে ইনসুলিন নিতে হবে। 
  • আর আক্রান্ত ব্যক্তির যদি জটিল ধরনের নিউমোনিয়া, সেপসিস, এআরডিএস, সেপটিক শক দেখা দেয় এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমান .১০ থাকে তাহলে আইভি বা শিরায় ইনসুলিন ইনফিউসন নিতে হবে।

গর্ভবতী নারী যাদের ডায়াবেটিস আছে কিংবা গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তারা কোভিড১৯ এর জন্য প্রযোজ্য সকল নিয়মাবলী মেনে চলবেন। তারা জন্য প্রযোজ্য সকল নিয়মাবলী মেনে চলবেন। রুটিনমাফিক প্রসবপূর্ব চেকআপের জন্য গাইনোকোলজিস্টএর কাছে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ সেবা গ্রহণ করবেন এবং প্রসবের সময় গাইনোকোলজিস্টএর পরামর্শ নিয়ে এবং নির্ধারিত হাসপাতালে যোগাযোগ করবেন।

  • নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করে দেখতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ সেবা গ্রহণ করতে হবে 
  • পরিমিত পরিমাণে সুষম খাবার খাওয়া, তেল চর্বি জাতীয় খাবার পরিমিত পরিমাণে এবং লবন সীমিত পরিমানে গ্রহণ করতে হবে। পরিমিত পরিমাণ লবণ দিয়ে খাবার রান্ন্া করতে হবে। ভাত খাওয়ার সময় পাতে লবণ নেয়া যাবে না। 
  • তেলেভাজা ফাস্টফুড এর পরিবর্তে ফল শাকসবজি খেতে হবে। 
  • ফল এবং কাঁচা শাকসবজি ইত্যাদি খাবার সময় লবণ পরিহার করতে হবে 
  • ধূমপান তামাক সেবন করা যাবে না এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে 
  • আইসোলেসন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ব্যায়াম করতে হবে
  • অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কোভিড১৯ জনিত জটিলতা বেশি দেখা যায়।
  • উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ বিশেষ করে এসিইইনহিবিটর (্যামিপ্রিল, পেরিন্ডেপ্রিল, ইরালাপ্রিল) এআরবি  (লোসার্টান, অলমিসার্টান, টেলমিসার্টান, ভালসার্টান) জাতীয় ওষুধ ব্যবহারে কোন বাধা নেই।
  • অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপে আক্রান্তদের ব্যাথানাসক নাকের ড্রপ  ব্যবহারে সর্তক হওয়া।
  • যারা ইতিমধ্যে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, জন্মনিয়ন্ত্রন বড়ি, মানসিক রোগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ খান, তাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখা।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ম্যালেরিয়া রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ক্লোরোকুইন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন, কোভিড১৯ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কোভিড১৯ চিকিৎসায় ওষুধগুলির কার্যকারিতা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এখনও ভালোভাবে পরীক্ষিত হয়নি। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ক্লোরোকুইন হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ব্যবহারে ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তে সুগারের মাত্রা কমে যায় তাই ডায়াবেটিক রোগীদের কোভিড১৯ চিকিৎসায় ওষুধ দুইটি ব্যবহারে বিশেষ সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে। হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধটি গর্ভাবস্থায় (গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ডায়াবেটিস রোগী গর্ভধারণ করলে), চোথের রোগ (রেটিনোপ্যাথী) হৃদরোগে দেয়া যাবে না।

সাধারণ সাবান দিয়ে হাত ধুলেও কোভিড১৯ থেকে সুরক্ষা সম্ভব। মনে রাখতে হবে আঙুলের ভাজে সামনে নখের চারপাশ ভালভাবে পরিষ্কার করা জরুরী।

Open chat
কোভিড ১৯ ও ডায়াবেটিস সম্পর্কিত অনলাইন সেবা